রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তা জাহিদুরের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি’র অভিযোগ

রাজশাহী প্রতিনিধি :রাজশাহী মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জাহিদুর রহিমের বিরুদ্ধে সেবাগৃহীতা এক নারীর শ্লীলতাহানি করাসহ অনৈতিক প্রস্তাব এবং ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।

 

গত ৫ ডিসেম্বর বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ওই নারী।ওই নারীর নাম সুমি (ছন্দনাম) গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলা।

 

ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুই সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠনসহ উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জাহিদুর রহিমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রেরণ করেন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো: অলীউল আলম।

 

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) জাহিদুর রহিমের নিকট ভুক্তভোগী ওই নারী একটি সংশোধনের আবেদন করেন।আবেদন পেয়ে ওই কর্মকর্তা কাজটি করে দিবে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুক্তভোগী ওই নারীর সাথে রাত কাটানোর প্রস্তাবসহ অশালীন কথাবার্তা বলেন।এরপর ওই নারী আবেদনের সংশোধন কপি নিতে আসলে অফিস কক্ষে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন রহিম।

 

অভিযোগে ওই নারী আরও বলেন, সংশোধন নামে তিনি আমার নিকট থেকে দু হাজার টাকা ঘুস নিয়ে কাজ না করে নানা কুপ্রস্তাবসহ হয়রানি করতে থাকেন।তার অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হলে সে হুমকি দেয়।বাধ্য হয়ে এবিষয়ে বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।

 

কারণ দর্শানো নোটিশে বলা হয়েছে সেবা গ্রহণকারীর নিকট থেকে দু হাজার টাকা উৎকোচ, ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপে আজে বাজে কথা বলা, বিয়ের প্রস্তাব দেওয়াসহ নানা হয়রানি করেছেন।অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটির সভায় অশোভন আচরণ ও বাজে কথা বার্তা বলে সভাস্থল ত্যাগ করার কারণে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে জাহিদুর রহিমকে।

 

প্রসঙ্গত, ইতিপূর্বে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চলতি বছরে পাবনা জেলার আরেক সেবাগ্রহীতা ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে একই আচরণ করেছিলেন তিনি।বিষয়টি সেসময় ধামাচাপা দেয় বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বোর্ড সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলেন, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জাহিদুর রহিমের নিকট কোন নারী নিরাপদ নয়।সে প্রতিনিয়ত নারীদের যৌন হয়রানি করে থাকেন।এরকম নারী লিপ্সু মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ পদ হতে সরিয়ে দেওয়া উচিত।এর কারণে শিক্ষা বোর্ডের সুনাম ও ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

 

এবিষয়ে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জাহিদুর রহিম বলেন, কারণ দর্শানো নোটিশ পেয়েছি।আমার বিরুদ্ধে অভিযোগটি সত্য নয়।লিখিতভাবে জবাব দিবো।

 

বক্তব্য জানতে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো: অলীউল আলমকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বোর্ড সচিবের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি বা সিলেক্ট করা যাবে না।