মোংলায় সুপেয় পানি সংরক্ষণ প্রকল্প পরির্দশনে ডেনমার্ক রাষ্ট্রদূত

ছবি: ফকিরহাট নিউজ ২৪

মোংলা উপজেলা প্রতিনিধি:

সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে এলেন ডেনমার্ক’র রাষ্ট্রদূত এইচ ই মিস্টার ক্রিশ্চিয়ান ব্রিকস মোলারসহ ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। বুধবার সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোংলা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ডেনমার্ক অর্থায়নে গ্রহণ করা প্রকল্পের কাজগুলো পরিদর্শন করেন তারা। সুন্দর ও সঠিকভাবে এ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ যদি প্রকল্পের সুফল পায় তাহলে আগামীতে আরো বড় প্রকল্পের কাজ করার কথা জানালের এ রাষ্ট্রদূত।

ব্র্যাক সূত্রে জানায়, দিন যতই বাড়ছে সুন্দরবনসহ মোংলা উপকূলীয় এলাকায় ততই লবণাক্তার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে মিষ্টি পানির অভাবে দিনকে দিন দিশেহারা হয়ে পড়েছে উপজেলার সাধারণ মানুষ। তাই খাওয়া ও সাংসারিক কাজে ব্যবহারে জন্য বৃষ্টির সুপেয় পানি সংরক্ষণ করতে ডেনমার্ক অর্থয়নে জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির আওতায় প্রতিষ্ঠান ভিক্তিক বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ পদ্ধতি নামের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ডেনমার্ক’র অর্থায়নে ২০২২ সালে জুলাই মাসে ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রহণ করা এ প্রকল্পটির পরিচালনা ও বাস্তবায়ন করছে ব্র্যাক। প্রকল্পের মধ্যে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ২ হাজার লিটার করে ৫ হাজার ৪০০ পরিবারকে দেয়া হয়েছে পানির ট্যাঙ্ক। সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ২টি পুকুর সংরক্ষণ করে মিষ্টি পানি বিশুদ্ধকরণের মাধ্যমে এলাকায় সরবরাহ ও ৬টি ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ পদ্ধতির ২৭টি স্থানে পানি সংরক্ষণ ট্যাঙ্ক স্থাপন করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে চাঁদপাই ৭টি, চিলা ৬টি, মিঠাখালী ৪টি, সুন্দরবন ৬টি, বুড়িরডাঙ্গা ৩টি ও সোনাইলতলা ইউনিয়নে ১টি স্থাপন করা হয়। এগুলোতে মোট ১০ লক্ষ ২০ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন সুপেয় পানির ট্যাঙ্ক। নামমাত্র প্রতি লিটার ৫০ পয়সা হারে এলাকা ভিত্তিক নির্ধারিত ৪ হাজার ৫৪৮টি পরিবার ছাড়াও অন্যান্যরা খাবারের জন্য নিতে পারবেন এ বিশুদ্ধ বৃষ্টির পানি।

গত ২০২২ সালে জুনে শুরু হওয়া এ কাজ বুধবার দুপুরে পরিদর্শনে আসেন ডেনমার্ক’র রাষ্ট্রদূত এইচ ই মিস্টার ক্রিশ্চিয়ান ব্রিকস মোলার ছাড়াও ঢাকার ডেনমার্ক এ্যাম্বাসির সিনিয়র এ্যাডভাইজার বিটালী তাসকিন ইসলাম, প্রকল্প পচিালক ড. মোহাম্মাদ লিয়াকত আলী, জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্পে প্রকল্প কর্মকর্তা আবু শাদাত মনিরুজ্জামান খাঁন, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাওসিফ আহাম্মেদ কোরাইশীসহ ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। এছাড়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার উম্মে তানিয়া সুলতানা, প্রকল্প ম্যানেজার মোঃ শফিকুর রহমান স্বপন, এরিয়া ম্যানেজার মোঃ শাহাবুদ্দিন ও তৃপ্তি সরকারসহ আরো অনেকে এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় দীঘদিনের পানির সংকট থেকে মুক্তি পেয়ে খুশি উপকূলীয় এ এলাকার সাধারণ মানুষ।

ডেনমার্ক’র রাষ্ট্রদূত এইচ ই মিস্টার ক্রিশ্চিয়ান ব্রিকস মোলার বরাত দিয়ে ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ লিয়াকত আলী বলেন, গ্রহণ করা প্রকল্পগুলোর কাজ চলমান রয়েছে। যদি এর সুফল মানুষ সুন্দর ও সঠিকভাবে ভোগ করতে পারে তা হলে আগামী অর্থ বছরের মধ্যে এক হাজার ৪০০ পানির ট্যাঙ্ক, আরো ৩টি পুকুর ও প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক আরো ৫-৬ লক্ষ লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ১৫টি ট্যাঙ্ক স্তাপন করা হবে। এছাড়া লবণাক্ত এ অঞ্চলের মানুষের জন্য লবণ সহিষ্ণু ফসল উৎপাদনের সহায়তা করা হবে বলেও জানায় প্রকল্প পরিচালক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি বা সিলেক্ট করা যাবে না।